close
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম - ICT Barta
টিপস এন্ড ট্রিকস

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম। ভুল হলে যেভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করবেন। অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম। ন্যাশনাল আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য যেভাবে আবেদন করবেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ড একজন ব্যাক্তির কতগুলো বিষয়ের মধ্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ধরনের সেবা পেতে ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয়। তবে যদি কার্ডের তথ্য ভুল থাকে তাহলে তো আর আপনি কোন সুবিধা পাবেন না।

জাতীয় পরিচয়পত্রে যে ধরনের তথ্য ভুল হয়ে থাকে

প্রায়ই ক্ষেত্রে দেখা যায় জন্ম তারিখে ভুল। বাবার বয়স থেকে ছেলের বয়স ৫ বছর বেশি হয়ে যায়। আবার কখনো নিজের বা বাবা-মা নামে ভুল থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের তথ্য ভুল হয়ে থাকে।

অনেকের আবার নতুন তথ্য সংযুক্ত করার প্রয়োজন হয়। যেমন: বৈবাহিক অবস্থা, স্থান পরিবর্তনের তথ্য, রক্তের গ্রুপ ইত্যাদি।

অনেকেই গুগলে সার্চ করেন ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম/জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম/জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন/ nid সংশোধন করার নিয়ম/ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন ফরম/ন্যাশনাল আইডি কার্ড সংশোধন ইত্যাদি ইত্যাদি। তাহলে চলুন আর দেরি না করে শুরু করা যাক….

যেভাবে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন করবেন:

এতদিনে আপনি হয়তো জেনে গেছেন যে, এখন জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংশোধন অনলাইনে ঘরে বসেই করা যায়। কম্পিউপার/মোবাইল দিয়ে আপনি নিজেই পারবেন। আপনি না পারলে কোনো কম্পিউটারের দোকানে যেয়ে করতে পারেন।

এছাড়াও উপজেলায় র্নিবাচন অফিসে যেয়েও তথ্য সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তারা বিনামূল্যে আপনার কাজ করে দিবে। তবে বর্তমানে অনেক হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। তাই অনলাইনে নিজে নিজে করাই ভালো।

আরো জানুন: Bitcoin কী? কীভাবে Bitcoin থেকে ইনকাম? A-Z

আজকে আমি Step by Step আলোচনা করব :

১) প্রথমে গুগল ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্স ব্রাউজারে ‍গিয়ে সার্চ করুন nid card/nid registration/ nid card check in Bangladesh/nid card download তারপর সর্বপ্রথম লিংকে ক্লিক করুন

অথবা এই লিংকে ক্লিক করুন:  https://services.nidw.gov.bd/

২) এখান থেকে রেজিস্টার ক্লিক করুন। আর আপনি যদি পূর্বে রেজিস্টার করে থাকেন তাহলে লগইনে ক্লিক মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন

৩) নিচে লেখা রেজিষ্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে চাই তে ক্লিক করুন।

৪) এবার আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার দিতে হবে। ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার যদি ১৩ ডিজিটের হয় তাহলে প্রথমে আপনার জন্ম সাল যুক্ত করে লিখুন। পরে আপনার জন্ম তারিখ দিন,মাস,বছর সঠিকভাবে লিখুন। ছবিতে প্রদর্শিত লেখাগুলো সঠিকভাবে লিখে সাবমিট এ ক্লিক করুন।

৩) নিচে লেখা রেজিষ্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে চাই তে ক্লিক করুন। ৪) এবার আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার দিতে হবে। ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার যদি ১৩ ডিজিটের হয় তাহলে প্রথমে আপনার জন্ম সাল যুক্ত করে লিখুন। পরে আপনার জন্ম তারিখ দিন,মাস,বছর সঠিকভাবে লিখুন। ছবিতে প্রদর্শিত লেখাগুলো সঠিকভাবে লিখে সাবমিট এ ক্লিক করুন।

৫) এবার আপনাকে যে আইডি কার্ড সংশোধন করবেন সে কার্ডের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা দিতে হবে। আপনি যদি ঠিকানা সংশোধন করতে চান তাহলে তা পরবর্তীতে দিতে হবে। কিন্তু এখন আপনার বর্তমান কার্ডের তথ্য অনুযায়ী দিতে হবে। শেষে পরবর্তীতে ক্লিক করুন।

NID Card সংশোধন

৬) এখন আপনার মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। যে নাম্বারে একটা ভেরিফিকেশন কোড পাঠাবে। মোবাইল নাম্বার দিয়ে বার্তা পাঠান এ ক্লিক করুন।৬) এখন আপনার মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। যে নাম্বারে একটা ভেরিফিকেশন কোড পাঠাবে। মোবাইল নাম্বার দিয়ে বার্তা পাঠান এ ক্লিক করুন।

৭) আপনার মোবাইল নাম্বারে ৬ সংখ্যার একটি যাচাইকরন কোড পাঠানো হয়েছে। কোডটি দিয়ে বহাল বাটনে ক্লিক করুন।৭) আপনার মোবাইল নাম্বারে ৬ সংখ্যার একটি যাচাইকরন কোড পাঠানো হয়েছে। কোডটি দিয়ে বহাল বাটনে ক্লিক করুন।

৮) এবার আপনার মোবাইলে NID Wallet অ্যপটি ইন্সটল করুন। স্ক্রিনে প্রদর্শিত QR স্ক্যান করুন এবং আপনি নিজে উপস্থিত থেকে ফেইস দিয়ে যাচাই করুন। তাহলে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাওয়া হবে।NID Wallet

৯) এখন স্ক্রিনে আপনার ছবি প্রদর্শিত হবে। এখান থেকে উপরের হোম লেখারউপর ক্লিক করুন।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম

১০) স্ক্রিনে আপনার ছবি, ঠিকানা. NID নাম্বার দেখতে পারবেন। এছাড়াও কতগুলো অপশন আছে সেখান থেকে প্রোফাইলে ক্লিক করুন।

ন্যাশনাল আইডি কার্ড সংশোধন

১১) এখানে আপনার সব তথ্য দেখতে পারবেন। এখন যদি কোনো ভুল তথ্য সংশোধন করতে চান বা নতুন তথ্য সংযুক্ত করতে চান তাহলে এডিট এ ক্লিক করুন।

১২) আপনি যে তথ্য পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন তাতে টিক মার্ক দিয়ে সঠিক তথ্য লিখুন। ধরুন আমি রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করব। পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন

১৩) আপনি যে তথ্য পরিবর্তন করবেন তা দেখতে পাবেন। আবারও পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

১৪) ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন বা রিইস্যুর জন্য নির্দিষ্ট পরিমান ফি দিতে হবে। আপনি যদি পরবর্তী বাটনে ক্লিক করেন তাহলে আপনি দেখতে পাবেন আপনার ফি কত টাকা। ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন ও পরিবর্তন অনুযায়ী ফি নির্ধারিত হয়ে থাকে। অথবা আপনি এই লিংকে ক্লিক করেও কত টাকা ফি দিতে হবে তা ক্যালকুলেট করে নিতে পারেন।

আরো জানুন: সেরা গেমিং ল্যাপটপ-২০২১

NID কার্ডের তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের জন্য ফি হিসাব করবেন যেভাবে:

উপরে দেয়া লিংকে ক্লিক করে

  • এনআইডি নাম্বার দিন
  • আবেদনের ধরন সিলেক্ট করুন ধরন
  • কার্ড ডেলিভারি টাইপ সিলেক্ট করুন
  • ক্যাপচা পূরণ করে হিসাব করুন বাটনে ক্লিক করুন

প্রতিটি ধাপ যদি ছবি সহকারে দেই সেক্ষেত্রে এই আর্টিকেলটি অনেক বড় হয়ে যাবে।

ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের জন্য ফি পরিশোধ করবেন যেভাবে:

পাচঁ উপায়ে ফি পরিশোধ করা যায়। তবে আমার মনে হয় সব থেকে সহজ উপায় হলো ডাচ বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং রকেটের মাধ্যমে। যেভাবে রকেটে ফি পরিশোধ করবেন:

  • ডায়াল করুন *322#
  • ১ নাম্বারে Bill Pay অপশনটি সিলেক্ট করুন
  • এখন দুটি অপশন আসবে। আপনি যে নাম্বার দিয়ে আবেদন করবেন সে নাম্বার দিয়েই যদি পেমেন্ট করেন তাহলে Self-1 ডায়াল করুন। আর যদি অন্য কোনো নাম্বার দিয়ে পেমেন্ট করে থাকেন তাহলে Other-2 ডায়াল করুন। আমি অন্য নাম্বার দিয়ে পেমেন্ট করব।
  • এবার যে নাম্বার দিয়ে আবেদন করতে চান সে নাম্বার লিখে সেন্ড করুন।
  • এখন আপনি অনেক গুলো প্রতিষ্ঠানের নাম দেখতে পাবেন। কিন্তু এখানে নির্বাচন কমিশনের নাম নাই। তাই Other অপশন সিলেক্ট করুন।
  • এখন বিলার আইডি দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের বিলার আইডি 1000 লিখে সেন্ড করুন।
  • এবার আপনাকে ১০/১৭ ডিজিটের NID নাম্বার দিতে হবে। সঠিকভাবে নাম্বারটি লিখুন।
  • কি ধরনে তথ্য সংশোধনের জন্য ফি দিবেন তা সিলেক্ট করতে হবে। নাম, ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য ১ চাপুন। রক্তের গ্রুপ, ধর্ম, TIN এগুলো এডিট করতে চাইলে ২। দুই ধরনের তথ্যের জন্য ৩। জরুরীভাবে Duplicate card তুলতে চাইলে ৫ চাপুন।
  • এবার আপনার মোবাইলে ফির পরিমান দেখাবে। ১ ডায়াল করে বিলটি পাঠিয়ে দিন।

টাকা পরিশোধ করার ৩০ মিনিট পর পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।

১৫) এখন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করতে হবে। অবশ্যাই স্ক্যান করে সত্যায়িত কপি আপলোড করতে হবে। আপনার যে তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধন করবেন তা সাথে যায় এমন কাগজপত্র আপলোড করবেন। মিনিমান ৩/৪ টা পেপার আপলোড করুন তাহলে তারাতারি সমাধান হবে।

১৬) সকল প্রয়োজনীয় কাজগপত্র আপলোড করার পরে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন। এখানে এসে আপনি কি কি তথ্য পরিবর্তন করবেন তা দেখতে পাবেন। তার জন্য কি কি কাগজপত্র আপলোড করছেন তাও দেখতে পাবেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে সাবমিট বাটলে ক্লিক করুন।

আপনার আবেদন সম্পন্ন হয়েছে।

এখন আমার ভোটার আইডি কার্ড এর কোনো তথ্য সংশোধন বা পরিবর্তন করার প্রয়োজন নাই। তাই সর্বশেষ ধাপগুলো ছবি সহকারে দেখাতে পারি নাই। তবে আমি লেখার মাধ্যমে সম্পূর্ণভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

এখন প্রোফাইলে গেলে দেখতে পাবেন যে আবেদন পেন্ডিং আছে। কয়েক কার্য দিবস অপেক্ষা করুন দেখতে পাবেন যে আপনার আবেদন গ্রহন করা হয়েছে।

আশা করি, আমার সাথে সাথে আপনিও আবেদন সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার নিয়ম/ ভুল হলে যেভাবে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করবেন। ন্যাশনাল আইডি কার্ড সংশোধন করার জন্য যেভাবে আবেদন করবেন সবকিছুই জানতে পেরেছেন। আরেকদিন আলোচনা করব অনলাইন থেকে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার নিয়ম।

যদি কোনো প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। অথবা আবেদন করার সময় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলেও জানাতে পারেন। ভালো থাকবেন-সুস্থ থাকবেন।

আরো জানুন: ফেসবুক আইডি হ্যাক করার উপায়

Saidul Islam

আমি মো: সাইদুল ইসলাম। বেশ কিছুদিন ধরে প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করছি। এছাড়াও এসইও নিয়ে কাজ করতেছি। আমিও এখনো একজন লার্নার, তাই বলবো ‍নিয়মিত ব্লগ পড়ুন, জানতে থাকুন ও নতুন কিছু শিখতে থাকুন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button