close
ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করব? এবং কেন করব? - ICT Barta
অন্যান্যটিপস এন্ড ট্রিকস

ব্লগিং কি? কিভাবে শুরু করব? এবং কেন করব?

ইন্টারনেট জগতে “ব্লগ” এর বয়স প্রায় ২৩ বছর শেষ হয়েছে। বর্তমানে এমন লোক খুব কমই খুজে পাওয়া যাবে যে ব্লগ সর্ম্পকে কিছু জানে না বা এখনো শুনে নাই। আজকে আলোচনা করব ব্লগিং এর ইতিহাস, ব্লগিং কি, কেন ব্লগিং করবেন। ব্লগিং করে কি হবে, এবং ব্লগিং কিভাবে শুরু করব ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে।

ব্লগিং এর ইতিহাস

ব্লগ শব্দটির ইংরেজি হচ্ছে Blog। Weblog শব্দের সংক্ষিপ্ত রুপ হলো blog। সর্বপ্রথম ১৯৯৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর ’জন বার্গার’ নামক এক ব্যাক্তি weblog শব্দটির উদ্ভাবন করেন। তার প্রায় দুই বছর পর ১৯৯৯ সালে মার্চ বা এপ্রিলের দিকে ’পিটার মেরহোলজ’ নামক আরেক ব্যাক্তি শব্দটিকে দুটি অংশে ভাগ করে web এবং blog। এর পর থেকেই blog শব্দের ব্যবহার বাড়তে থাকে। বর্তমানে অনেকেই ব্লগিং কে কর্মক্ষেত্র হিসেবে তৈরি করেছেন এবং এখান থেকে সফলতাও পেয়েছেন।

ব্লগ কি?

ব্লগ হলো এক ধরনের অনলাইন ভিত্তিক ব্যাক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগের একটি মাধ্যম। যেখানে লেখা, ছবি, ভিডিও এবং অন্য ওয়েব সাইটের লিংক ইত্যাদি থাকে। ব্লগাররা নিয়মিত তাদের সাইটে কনটেন্ট পোস্ট করেন আর ব্যবহারকারীরা তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেখেন এবং মন্তব্য করেন।

অধিকাংশ ব্লগেই নির্দিষ্ট কোনো বিষয়বস্তু নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লেখা হয়। কোনো ব্যাক্তি যে বিষয় সর্ম্পকে খুব ভালো জানেন সে বিষয়ের উপরই ব্লগ লেখেন।  ব্লগ ও ওয়েবসাইট এর মধ্যে মূল পার্থক্য হলো ব্লগ আপডেট করা হয় নিয়মিত ভাবে আর ওয়েবসাইট আপডেট করা হয় অনিয়মিত ভাবে। আবার কিছু কিছু ব্লগ প্রতি মুহূর্তে আপডেট করা হয়।

ব্লগিং কেন করবেন?

ব্লগিং করার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন আপনি একটা বিষয় সর্ম্পকে খুব ভালো জানেন। এখন আপনি চাচ্ছেন আপনার জানা বিষয়গুলো পৃথিবীর সব মানুষকে জানাতে। এই জানানোর অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ব্লগিং।

তবে বর্তমান সময়ে আয় করার ভালো একটি মাধ্যম ব্লগিং। ব্লগিং করে বিভিন্ন উপায়ে আয় করা যায়। যেমন: গুগল অ্যাডসেন্স, অ্যাফিলেট মার্কেটিং, বিজ্ঞাপনের জায়গা বিক্রয় করে এছাড়াও অনেক উপায় রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে ব্লগিং একটি জনপ্রিয় পেশা। সেখানে প্রায় সব শ্রেনীপেশার মানুষই ব্লগিং এর সাথে জড়িত। আবার অনেক ব্লগার শুধু তাদের শখের বিষয় নিয়ে ব্লগিং করে থাকে।

ব্লগিং করে কি হবে?

ব্লগিং করার মাধ্যমে আপনি আয় করতে পারবেন। বর্তমানে অনেক মানুষ ব্লগিংকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছে। ব্লগিং করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা পরিচয় শেয়ার করে নিজেকে জনপ্রিয় করতে তুলতে পারবেন। ব্লগাররা কোনো কনটেন্ট লেখার জন্য অনেক রিসার্স করে থাকে ফলে তার চিন্তাধারার বিকাশ ঘটে। এছাড়াও ব্লগিং করলে প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশ ঘটে।

ব্লগিং শুরু করার ধাপ সমুহ

নতুন যারা ব্লগিং শুরু করি তাদের প্রতেকেরই প্রশ্ন থাকে ব্লগিং কিভাবে শুরু করব? আশাকরি আজকে এই আর্টিকেলটি পড়ার পরে আর এমন প্রশ্ন থাকবে না।কিভাবে ব্লগিং শুরু করবেন

১. নিশ সিলেক্ট করুন

আপনি যে টপিক/বিষয়ের উপর ব্লগিং করতে চাচ্ছেন তা নির্ধারন করুন। যেমন: Health and fitness, Sports, Technology, Science, Product review, Fashion, Travel, Lifestyle, Marketing ইত্যাদি। মানে ব্লগিং নিশ সর্ম্পকে বলে শেষ করা যাবে না। সব থেকে ভালো হচ্ছে আপনি যে বিষয় সর্ম্পকে ভালো জানেন কিংবা ভালো লাগে সে টপিক নিয়ে কাজ করুন।

নিশ সিলেক্ট করা শেষ হলে এবার ওই নিশের উপর ভিত্তি করে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। কিওয়ার্ড রিসার্চ বলতে বোঝায় কি লিখে সার্চ করলে গুগলসহ অন্যান্য সার্চ ইন্জিনে আপনার সাইটটি প্রথমে আসবে। এমন কিওয়ার্ড খুজে বের করতে হবে। অথবা কোনো অভিজ্ঞ ব্যাক্তি মাধ্যমে কিওয়ার্ড রিসার্চ করে নিতে পারেন। কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য বেশ কয়েকটি ফ্রি এবং পেইড টুল রয়েছে। এগুলো হলো:

  • Keyword Planner
  • Moz Keyword Explorer
  • Soovle
  • SEMrush
  • Keyword Revealer
  • Ahrefs Keyword Explorer (paid)
  • Google Search Console
  • KeywordTool.io

২. ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম

 ব্লগিং-প্লাটফর্ম

প্রথমেই আপনি কোন প্ল্যাটফর্মে ব্লগিং করবেন তা বেছে নিতে হবে। ব্লগিং করার অনেক অনেকগুলো প্ল্যাটফর্ম আছে।নিম্নে আমি ৪ টি সেরা ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম সর্ম্পকে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করব:

Wordpress: ব্লগারদের জন্য সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। কারন এখানে ব্লগিং করা অনেক সহজ। এখানে ওয়েবসাইট ডিজাইন করতে তেমন কোড জানতে হয় না। Wordpress এর দুইটি সাইট রয়েছে Wordpress.com এবং Wordpress.org। ওয়ার্ডপ্রেস ডট কমে ফ্রিতে ব্লগসাইট তৈরি করা যায়। Wordpress.org সাইট থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ডাউনলোড হোস্টেড সার্ভারে নিজস্ব ডোমেইসহ ইনস্টল করতে হয়। আমি রিকমেন্ট করব ওয়ার্ডপ্রেস দিয়েই ব্লগিং শুরু করার জন্য।

Google Blogger: আপনি যদি ফ্রিতে ব্লগিং করতে চান তাহলে বেস্ট হচ্ছে Blogger। নতুন যারা ব্লগিং শুরু করে তারা অনেকেই Blogger ব্যবহার করে। এখানো কোনো ডোমেইন-হোস্টিং কিনতে হবে না বা সেটাপ করতেও তেমন ঝামেলা নেই। শুধু একটি জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকলেই কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেটাপ করা যাবে।

Medium: ব্লগিং প্লাটফর্মে মিডিয়াম বেশ জনপ্রিয়। যদিও বাংলাদেশে এর তেমন ব্যবহাকারী নেই। মিডিয়ামের মাধ্যমে খুব সহজেই ইনকাম করা যায়। মিডিয়ামের পার্টনার প্রোগ্রামে জয়েন করার পর যদি মিডিয়াম সাবস্ক্রাইবার’রা আপনার কনটেন্ট কে পছন্দ করে তখনই আপনি উর্পাজন করতে শুরু করবেন।

Squarespace: আপনি যদি প্রোডাক্ট সেল এবং ব্লগিং একসাথে করতে চান তাহলে আপনার জন্য সুবিধা সম্পন্ন প্লাটফর্ম Squarespace। এখানে প্রোডাক্ট সেল করা থেকে শুরু করে ডোনেশন রিসিভ পযর্ন্ত যেসব ফিচার প্রয়োজন তা সব আছে।

৩. ডোমেইন নাম এবং হোস্টিং নির্ধারণ

আপনার ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম নির্ধারণ করাও একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়। কেননা এই নামেই ব্লগটি মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পাবে। ডোমেইন নাম আপনার নিশের সাথে মিল রেখে নেওয়াই ভালো। যতটা সম্ভব ছোট নাম নেয়ার চেষ্টা করবেন। ডোমেই নিবন্ধন করার জন্য বিভিন্ন কম্পানি বা প্রতিষ্ঠান আছে। যেমন: GoDaddy.com, Namecheap.com, Webhostbd.com, Bluehost.com, HostGator.com ইত্যাদি। অবশ্যই ডোমেইন ক্রয করার সময় খেয়াল রাখবেন যে, পরবর্তীতে রিনিউ খরচ কেমন হবে।

হোস্টিং ক্রয় করার জন্য ভালো মানের কোনো কম্পানি থেকে ক্রয় করবেন। যারা সার্ভিস ভালো দিয়ে থাকে। আপনার সাইটের লোড স্পিড অনেকটাই নির্ভর করবে হোস্টিং সার্ভারের উপর। আপনি চাইলে কোনো কম্পানি থেকে ডোমেইন-হোস্টিং একসাথেই কিনতে পারবেন। সাধারনত ব্লগ সাইটের জন্য ১ জিবি হোস্টিং নিয়েই শুরু করা যায়।

৪. ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করুন

wordpress install process

যেহেতু আমি ব্লগিং প্লাটফর্ম হিসেবে ওয়ার্ডপ্রেসকে রিকমেন্ট করেছি। হোস্টিং সার্ভারে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবে। প্রথমে cPanel লগিন করতে হবে, Application list থেকে Wordpress Manager ক্লিক করুন। তারপর Install ক্লিক করুন। ইন্সটল হওয়ার পর Wordpress Admin Panel লগিন করুন।

৫. ওয়ার্ডপ্রেস থিম ইন্সটল এবং কাস্টমাইজ করুন

ওয়েবসাইট দেখতে কেমন হবে তা নির্ভর করে থিম এর উপার। আপনার ওয়েবসাইট যেভাবে দেখতে চাচ্ছেন ঠিক ওই রকম ডিজাইনের থিম ইন্সটল করতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ফ্রি এবং প্রিমিয়াম থিম রয়েছে। যেমন: GeneratePress, Astra Theme, Jannah Theme ইত্যাদি। নিজে যদি থিম কাস্টমাইজ করতে না পারেন তাহলে কোনো ডেভলোপার এর সাহায্য নিতে হবে। থিম কাস্টমাইজ শেষ হলে প্রয়োজনীয় প্লাগিন ইন্সটল করতে হবে। এসইও করার জন্য Yoast এবং Rank math দুটি জনপ্রিয় প্লাগিন রয়েছে।

৭. কনটেন্ট লেখা শুরু করুন

থিম কাস্টমাইজ এর কাজ শেষ হলে এবার আর্টিকেল লেখা শুরু করুন। প্রতিটি আর্টিকেল কমপক্ষে ৫০০-১০০০ ওয়ার্ড থাকা প্রয়োজন, বেশি হলে আরো ভালো হয়। আর্টিকেল লেখার সময় অবশ্যই এসইও এর উপর নজর রাখতে হবে তাহলে খুব সহজে গুগল র‌্যাংক করে প্রথম পেইজে আসা সম্ভব। আর্টিকেল লেখার সময় অনপেইজ অপটিমাইজেশনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।

আশাকরি ব্লগিং সর্ম্পকে একটি সম্পূর্ন ধারনা পেয়েছেন। এখানে ব্লগিং কিভাবে শুরু করব? এবং কেন ব্লগিং করবেন সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। ধন্যবাদ!

Saidul Islam

আমি মো: সাইদুল ইসলাম। বেশ কিছুদিন ধরে প্ৰযুক্তি নিয়ে লেখালেখি করছি। এছাড়াও এসইও নিয়ে কাজ করতেছি। আমিও এখনো একজন লার্নার, তাই বলবো ‍নিয়মিত ব্লগ পড়ুন, জানতে থাকুন ও নতুন কিছু শিখতে থাকুন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button